ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এই অভিযোগ তুলেছেন।
গতকাল রবিবার সকালে আধুনিক সদর হাসপাতালে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি তদারকি করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় সাত মাস আগে কোনো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পুনর্বহালের নির্দেশনা দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। তিনি আরও বলেন, আমরা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, চাকরিচ্যুত হয়ে যারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাদের বিষয়ে দ্রুতই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘মেসার্স সারমী ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই হাসপাতালে ক্লিনার, আয়া, ওয়ার্ডবয়, ট্রলি বয় ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। গত সাত মাস আগে আকস্মিকভাবে হাজিরা খাতা ও ডিউটি রেজিস্টার থেকে ৩৫ জন কর্মীর নাম বাদ দেওয়া হয়।
কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই এই ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কর্মীরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন ঝুলে আছে। তদারকিকালে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু, দপ্তর সম্পাদক আওলাদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, যেহেতু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ এবং ওই প্রতিষ্ঠানই তাদের বাদ দিয়েছে, তাই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারিভাবে লোকবল বাড়ানো হলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কাজ করা হবে।
