আমরা সকল বৈষম্যের কবর দিতে চাই – ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেশের মানুষ নানা বৈষম্যের শিকার। আমরা সকল বৈষম্যের কবর দিতে চাই।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উত্তরবঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে গোটা উত্তর বঙ্গকে উন্নত করবো। শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন, যাতায়াতসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূর করবো।  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। আমরা আর বেকারত্ব দেখতে চাই না। যারা বর্তমানে বেকার রয়েছেন, তাদের উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে একেকটি শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি কোষাগাড় থেকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চেয়েও আধুনিক ও উন্নত করা হবে, যাতে শিল্পপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশে রপ্তানি করা যায়। এজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।  

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রসঙ্গে জামায়াতে আমির বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। আপনাদের সম্পদের রক্ষাকর্তা হিসেবে আমাদের প্রার্থীরা পাহারাদাড় হয়ে কাজ করবে। এজন্য তিনটি আসনেই তাদের নির্বাচিত করে জেলার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।  

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে আপনারা এমন নেতৃত্বকে নির্বাচিত করুন, যারা দেশের স্বার্থ রক্ষায় বিদেশে বন্ধু খুঁজবে—কিন্তু কাউকে প্রভু হিসেবে মানবে না। যারা এই বাংলাদেশকে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ফুলের বাগান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, সেই দলকেই আপনারা সমর্থন দিন।  

বক্তব্যের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনের তিনজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ সিগবা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা।