অবৈধ বালু বোঝাই বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় ৩ শিক্ষার্থীসহ আহত ৫

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অবৈধ বালু বোঝাই ট্রাকের বেপরোয়া ধাক্কায় তিন শিশু শিক্ষার্থীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার নাকাটিহাট এলাকার টাঙ্গন ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ভবানীপুর গ্রামের রৌজা (৬), উর্মিকা (১০), রেকিয়া (৬), মোটরসাইকেল চালক উজ্জ্বল (২৫) ও লাইছুর রহমান (২০)। আহত তিন শিশু নাকাটিহাটের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী। অন্য দুইজন ছিলেন মোটরসাইকেলের চালক।

ভুক্তভোগী এক অভিভাবক রেজাউল করিম এ ঘটনায় পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে তারা রওনা দেয়। টাঙ্গন ব্রিজ অতিক্রমের পরই অবৈধ বালু ব্যবসায়ী মোশাররফ মাষ্টারের বালুবাহী ট্রাকটি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে পাঁচজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোষা বালু মহাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন মোশাররফ মাস্টার, সাইফুল ইসলাম, সালাউদ্দিন, আলাউদ্দিন, মকবুল মেম্বারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বালু মহালটি নওগাঁর সিরাজুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদারের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল- যেখানে নির্দিষ্ট দাগ, চৌহদ্দি ও পরিমাণ উল্লেখ থাকলেও ড্রেজার ব্যবহারের অনুমতি ছিল না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি চৌহদ্দির বাইরে টাঙ্গন ব্রীজের ঠিক পাশেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা ব্রিজটির স্থায়িত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করেছে এলাকাবাসী।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর অভিযোগ এবং দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়সহ একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।

এরপর সরকারি বিধি মোতাবেক নির্দিষ্ট চৌহদ্দি নির্ণয় করে বালু উত্তোলনের সীমানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।

তবে নির্দেশনা অমান্য করে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী মোশাররফ মাস্টারের নেতৃত্বে বালু খেকো চক্রটি পুনরায় ব্রীজের পাশের আগের স্থানেই বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

বেপরোয়া ট্রাকগুলোরগুলোর নিয়ন্ত্রণসহ বালু উত্তোলনের বিষয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন বলেন, আহতদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি শুনানির জন্য দেওয়া হয়েছে।