দেশের মাঠের পরিস্থিতি এখন পাল্টে গিয়েছে- ঠাকুরগাঁওয়ে সারজিস আলম 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যদি নির্বাচন হয় তাহলে আমরা মনে করি ডিসেম্বরের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও জেলার উপজেলা সহ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করবো। এ বিষয়ে সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কারণ আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হলরুমে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি ভোট সেন্টারে স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের দুইটি রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতার যে সরল সমীকরণ এই সরল সমীকরণ এবারে আর থাকবে না। বরং এটাই হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যে, দ্বিতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নির্ধারণ করবে প্রথম দুটি দলের মধ্যে কোন দল আগামী নির্বাচনে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবে।

সারজিস বলেন, বাংলাদেশ সংস্কারের পক্ষে যারা আছে সেই ধরনের দলগুলোকে নিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করেছি। আমরা আশা করছি আরো একাধিক রাজনৈতিক দল মিলে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট তৈরি করে সকলে মিলে একটি মার্কা নিয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশায় কাজ করবো।

তিনি আরো বলেন, মাঠের পরিস্থিতি এখন পাল্টে গিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত মাঠের জনগণেরা জুলুম ও অপকর্মকারীদের বয়কট করছে। যারা মানুষের পাশে থাকছে, তাদের কাছে গিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ছে ‌। এনসিপি একটি মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই জায়গাটা নিতে চায়।

নির্বাচন নিয়ে সারজিস বলেন, আগামী নির্বাচনে কেউ যদি কোন একটা নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল তাদের জায়গা থেকে তাদের যা আদর্শ সেটা সকল মানুষের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে মানুষ এটা থেকেও বিমুখ হবে। আগামীর বাংলাদেশে সংস্কারের পক্ষে যে কোন পরশক্তি ও আধিপত্যবাদের বিপক্ষে আমরা একটি রাজনৈতিক দল দাড় করাবো। আমরা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সেই জায়গা থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। 

এনসিপির মূখ্য সংগঠক বলেন, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই ভয়টুকু আছে তারা যদি তাদের নীতি-নৈতিকতার জায়গায় থাকে তাহলে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। সামগ্রিকভাবে এটার দুর্বলতা রয়েছে। এখনো কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তাদের পূর্বের মানসিকতা এখনো ছাড়তে পারেনি। তারা মনে করে সময় হলেই ক্ষমতায় গেলে তারা তাদের বেশি শক্তি প্রয়োগ করবে। সময় হলেই তারা তাদের কালো টাকার খেলা দেখাবে এবং প্রশাসনকে তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবহার করবে। যা মোটেই কাম্য নয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী নির্বাচনের যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন এতে এমসিপির কোন দ্বিমত অথবা সন্দেহ নেই। কোন ব্যক্তি বা কোনো সংগঠনের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাবে আমরা এমন প্রত্যাশা করিনা। আমরা চাই একটি লেবেল প্লেইং ফিল্ডের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

পুলিশ নিয়ে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় পুলিশের কিছু কিছু সদস্য রয়েছে যারা এখনো টাকা লেনদেনের সাথে জড়িত। টাকা ছাড়া তারা কাজ করেন না। টাকার কারণে তারা অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেন এবং নিরপরাধিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন। আমরা এই জায়গা সংস্কারে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানিয়েছি। ওসি, এসপি, ডিআইজি অথবা যত বড়ই কর্মকর্তা হোক না কেন কেউ যদি কোন দলীয় নেতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যা করার দরকার এমসিপি সেটাই করবে। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের ১ বছর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও অজানা কারণে তিনি দেশে আসছেন না। কিন্তু আমরা মনে করি তিনি বাংলাদেশে আসলে তার জন্য কোন সমস্যা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এনসিপি মনে করে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলগুলো সুন্দর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আমরা নিজেদের মধ্যে কাদাছোড়াছুড়ি করবো না। কেউ যদি কোন ধরনের অপ্রত্যাশিত কাজ করে অথবা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট বিরোধী কোন রাজনৈতিক দল এ সুযোগ দিবে না। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম, সদস্য সচিব খলিলুর রহমানসহ অন্যান্যরা।