শাহিন আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও–১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে শক্তি ১৯৭১ সালে এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের প্রতি সমর্থন জানানো কখনোই সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের বড়গাঁও মাদ্রাসা, কাচারী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, কেশুরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,“১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে এবং অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো সরাসরি সেই সময়ের ভয়াবহতা দেখেনি। তবে যারা পঞ্চাশোর্ধ্ব, তারা খুব ভালোভাবেই জানেন—কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল আর কে ছিল বিপক্ষে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,“যারা এই দেশের স্বাধীনতাই চায়নি, যারা দখলদার বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল—তাদেরকে কীভাবে সমর্থন করা যায়?”বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র—এই তিনটি প্রশ্নে কোনো আপস নেই। যে কোনো মূল্যে এসব মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা একসঙ্গে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলেই এই দেশ গড়েছে এবং আগামীতেও সবাই একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪ নং বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সকল নেতাকর্মী, সমন্বয়ক প্রভাত কুমার সিংহ, আবুনুর প্রমুখ।
