মনোনয়ন দাখিল করলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার

সোহেল তানভীর, ঠাকুরগাঁও: মনোনয়ন দাখিল করলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা দলীয় কার্যালয় থেকে ভ্যানে চড়ে এসে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এ প্রার্থী।

দাখিলের পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নির্বাচনের আগে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারে, তবে আসন্ন নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে ভোট ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যার মূল লক্ষ্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। আমরা আশা করি দেশের জনগণ এই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করবে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ঠাকুরগাঁও গড়তে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই রায় দেবে।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আগামী দিনে একটি নিরাপদ ঠাকুরগাঁও গড়তে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান তারা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণ করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করতে চান তারা।

তিনি আরও বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ জেলার পরিচিতি পাবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে কাজ করতে চান তারা। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, সারাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরে দেশের রাজনীতিতে যে নষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান ঘটিয়ে সাম্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা।

দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তারা একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চান। “আমরা দুর্নীতি করব না এবং কাউকেও দুর্নীতি করতে দেব না। জনগণের জন্য রাষ্ট্র থেকে যে বরাদ্দ আসবে, তা সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে জবাবদিহি করা হবে এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহম্মদসহ দলটির নেতাকর্মীরা।