ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আবু তালেবের (৪৫) বিরুদ্ধে। তিনি সদর উপজেলার ৩নং আকচা পূর্ব বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২০৯/২৫। ভুক্তভোগী আফেলা খাতুন (৩৪) ১ কন্যা সন্তানের জননী। তিনি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার মধুবনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আফেলা খাতুনের স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ভাড়া বাসায় থেকে বাড়ির পাশেই একটি চা বিস্কুট এর দোকান করতেন। এখন থেকে প্রায় ৩ বছর আগে বিএনপি নেতা আবু তালেবের সাথে আফেলার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে আফেলাকে চা বিস্কুট এর দোকান বাদ দিয়ে চাকরি দিবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গভীর করে। চাকরির সুবাদেই আফেলার ভাড়া বাড়িতে অবাধেই যাতায়াত করতেন আবু তালেব।
এভাবে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও বিশ্বাস অর্জন হওয়ায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরগঞ্জের মধুবনপুরে বিএনপি নেতা আবু তালেব আফেলার বাড়িতে আসে। চাকরির বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে আবু তালেব আফেলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করে।
মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, চাকরির প্রলোভনের পাশাপাশি একপর্যায়ে আফেলাকে বিয়ে করারও আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে আবু তালেব বিএনপির বড় নেতা পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে গত ১৮ মার্চ আবু তালেবকে বিয়ের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চাপ দিলে আবু তালেব আফেলাকে বিয়ে করবে মর্মে ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে আসে। ইফতারের পর বিয়ে সম্পন্ন হবে এ কথা বলে এক অপরিচিত লোকের বাড়িতে নিয়ে যান আফেলাকে। সেখানেও সারারাত জোরপূর্বক আফেলাকে ধর্ষন করে বিএনপির এই নেতা।
ঐদিন রাতে আফেলার সাথে বিয়ের বিষয়ে আবু তালেবের কথা কাটাকাটি ও চিৎকার চেঁচামেচি শুনে এলাকাবাসীরা এগিয়ে এসে আফেলাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।
পরদিন ১৯ মার্চ বিএনপির এই নেতা আবু তালেবের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করতে যান আফেলা। সেখানকার কর্তব্যরত কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি দায়ের করার পরামর্শ দিলে ২০ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে আবু তালেবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী আফেলা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবু তালেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
cfdhmx