অবৈধ জাল ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না- ঠাকুরগাঁওয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাংলাদেশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের জলজ সম্পদ রক্ষায় অবৈধ জাল উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এই কাজ করে, তারা দেশের শত্রু। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীরাও সমান অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ সংলগ্ন মৎস্য চত্বরে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জলাশয়ের মৎস্যজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

ফরিদা আখতার আরও বলেন, “প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে মৎস্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণ সহ জেলেদের প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সকলেই সচেতন থেকে বৈধভাবে মাছ মারলে আমরা সকলেই সারা বছর দেশী মাছ খেতে পারবো। যেহেতু এসব মাছ আমাদের অনেক পুষ্টি যোগান দেয়। এছাড়াও তিনি উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ইলিশ মাছ সরবরাহের বিষয়টি আশ্বাস দেন।

ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফরিদা বলেন, ইলিশ মাছ আমাদের দেশের মানুষ আগে খাবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিবেশী দেশ ভারত ১২শ মেট্রিক টন ইলিশের চাহিদা দিয়েছে। আমাদের দেশের অন্যতম সম্পদ ইলিশ মাছ সর্বপ্রথম দেশের চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানোর আশ্বাসও দেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্যজীবী, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে করে নদী-নালা ও জলাশয়গুলোতে অবৈধ জাল ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল করা যায়।এর আগে বুড়ি বাঁধ মৎস্য অভয়াশ্রমে কয়েক প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়ার উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়াও অনুষ্ঠান শেষে সেখানেই গাছের চারাও রোপন করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আবদুর রউফ, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।