২৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দেওয়ার পরেও মিলনকে জীবিত ফিরে পায়নি পরিবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিলন হোসেন নামের এক যুবককে অপহরনের ২৫দিন পর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২০ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার অপহরণকারী সিজান আলী বাড়ীর পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে মিলনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে সিজান আলী। আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মুরাদ (২৫) এবং সালন্দর শাহীনগর (তেলীপাড়া) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রতœা আক্তার ইভা (১৯)। আটককৃত মুরাদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

অপহরণকারীদের ব্যাপারে জানতে পেরে ঐ বিক্ষুদ্ধ জনতা অপহরণকারী সিজানসহ মুরাদের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও আগুন নেভাতে বাঁধা দেয় বিক্ষুদ্ধরা।

মিলন হত্যার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসীরা। এরপর সেখান ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই এই স্লোগান দিতে দিতে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় শুয়ে পড়ে মিলনের পরিবারসহ ঐ এলাকাবাসীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় কোন গাড়ীকে যাতায়াত করতে না দেওয়ায় গোটা শহর যানযটে পরিণত হয়। বিপাকে পড়তে হয় পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের।

নিহত মিলন হোসেন (২৩) দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ও ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও চাপাপাড়া গ্রামের পানজাব আলীর ছেলে।

উল্লেখ্য, অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিলন হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের মুন্সিরহাট পলিটেকনিক্যাল কলেজের পিছনে লিচু বাগান থেকে অপহরণ হন। পরে চক্রটি তার পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে গত ৯ মার্চ (রোববার) রাতে মিলনের বাবা মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা অপহরণকারীদেন দেন। এরপরেও মিলনকে ফেরত দেয়নি তারা। আজ সেজান আলীর বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের নিচ থেকে মিলনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

One thought on “২৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দেওয়ার পরেও মিলনকে জীবিত ফিরে পায়নি পরিবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *