শাহিন আলম, ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী বাজার এলাকায় ভূল চিকিৎসার কারণে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিক মোঃ হারুন ভূল্লী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।গরুর মালিক মোঃ হারুন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে রোজগার করা টাকা জমিয়ে তিনি সম্প্রতি খোচাবাড়ী বাজার থেকে ১,৪০,০০০/- (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকায় একটি উন্নত জাতের গরু কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন। গরুটি ছিল তার সংসারের ভবিষ্যতের বড় একটি ভরসা।
কিন্তু কিনে আনার মাত্র নয়দিন পর গরুটি প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তখন তিনি স্থানীয় পশু চিকিৎসক পরিচয়ধারী ডা. মোঃ মশিউর রহমানকে খবর দেন।
হারুন জানান, তিনি চিকিৎসককে স্পষ্ট করে বলেন গরুর প্রচণ্ড জ্বর হয়েছে, প্রয়োজনে যেন সরকারি ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়।
কিন্তু মশিউর রহমান তাকে আশ্বস্ত করে বলেন— “কোন সমস্যা নেই, আধা ঘণ্টার মধ্যেই জ্বর কমে যাবে।”অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক গরুকে ইনজেকশন প্রয়োগ করার মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই গরুটি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়।প্রত্যক্ষদর্শী ববিতা বলেন, “ডাক্তার ভূল চিকিৎসা দিয়েছেন, এজন্যই গরুটি মারা গেছে।” গরুর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় হারুন ও তার পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, “অত্যন্ত কষ্টের টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলাম। অথচ এক ভুল চিকিৎসায় মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল।”এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডা. মোঃ মশিউর রহমান আসলে কোনো সরকারি স্বীকৃত পশু চিকিৎসক নন। তার কাছে পশু চিকিৎসার কোনো সার্টিফিকেট নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভূল্লী বাজার এলাকায় চিকিৎসক পরিচয়ে পশু চিকিৎসা করে আসছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, “এভাবে অপ্রশিক্ষিত লোক দিয়ে চিকিৎসা করানো মানে পশুর জীবনের সাথে ভয়াবহ খেলা।”এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, চিকিৎসককে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হয় নতুন গরু কিনে দিতে হবে, নতুবা গরুর দাম ১,৪০,০০০/- টাকা নগদ ফেরত দিতে হবে।
গরুর মালিক মোঃ হারুন ইতোমধ্যে ভূল্লী থানায় ডা. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূল্লীসহ গ্রামীণ এলাকায় ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
