ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘শেষ নির্বাচন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, নির্বাচন কোনো বিদায় সংবর্ধনা বা নবীন বরণের মঞ্চ নয়। নির্বাচন মানেই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।
তিনি বলেন, “যিনি নির্বাচনে অংশ নেন, তাকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে। যদি বলা হয় এটি কারও শেষ নির্বাচন, তাহলে কি তিনি আর জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন না? তাহলে কি জনগণের কাছে যাওয়ার আর প্রয়োজন থাকবে না? ভোটের প্রয়োজন না থাকলে জনগণের সঙ্গেও সম্পর্ক শেষ—এমন ধারণা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজাকার প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে রাজাকারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথমে আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয় বিএনপি, তৃতীয় জাতীয় পার্টি এবং চতুর্থ স্থানে জামায়াতের নাম ছিল। তাহলে আজ বিএনপির নেতারা কীভাবে বলেন যে আগে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে তারপর আমাদের ভোট চাইতে হবে? রাজাকারের তালিকাই প্রমাণ করে—ক্ষমা যদি চাইতেই হয়, তাহলে বিএনপিকেই আগে ক্ষমা চাইতে হবে।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওয়ে এমন কোনো নেতা নেই, যে আমার মতো নির্যাতন সহ্য করেছে। আমার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। সাড়ে পাঁচ বছর কারাভোগ করেছি। আমার ওপর কী পরিমাণ বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “ঠাকুরগাঁও থেকে আপনারা বারবার তিনজন করে এমপি নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তারা আপনাদের কী দিয়েছে? মেয়াদ শেষে তারা শুধু নিজের পরিবার ও দলের কথাই ভেবেছে, জনগণের জন্য কিছুই করেনি।”
দেলাওয়ার হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন করবো। শিক্ষার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু করে ঠাকুরগাঁওয়ের বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা হবে।”
এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
