সোমবার , জুলাই ২২ ২০১৯

স্ত্রীর সামনে স্বামীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা (ভিডিওসহ)

বরগুনায় শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই যুবক। নিহত ব্যক্তির নাম নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫)। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

এর আগে সকালে গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ধারালো দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিতে থাকে দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা যায় তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী। তারা ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এদিকে রিফাতের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম বলেন, রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। আয়েশার বিয়ে নিয়ে নয়নের সঙ্গে রিফাতের দ্বন্দ্ব চলছিল। এ কারণে রিফাত প্রতিদিন আয়েশাকে কলেজে পৌঁছে দিতেন। স্ত্রীকে কলেজে দিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হন রিফাত।

রিফাতের কয়েকজন বন্ধু জানান, নয়নের নেতৃত্বে রিফাত ফরাজিসহ আরও দুই যুবক ওই হামলায় অংশ নেন। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতের বুকে, ঘাড়ে, পিঠে আঘাত করেন।

এ বিষয়ে বরগুনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে থানা পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযান চলছে, শিগগিরই খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

Check Also

প্রেমপত্র দিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বন্ধুর প্রেমিকার বাড়িতে মোবাইল ও প্রেমপত্র পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বসন্ত শব্দকর (২৪)। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *