মঙ্গলবার , মার্চ ১৯ ২০১৯
Breaking News

দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশের মেয়েরা

খেলার খবর: সেই ভুটান। থিম্পুর সেই চাংলিমিথাং স্টেডিয়াম। টুর্নামেন্টটা শুধু আলাদা। ফলও। ১৮ আগস্ট সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ফাইনালে আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পোড়া নয়। একই স্টেডিয়ামে এবার শিরোপা উৎসব। গতকাল ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে উৎসবে ভাসলেন মৌসুমী, স্বপ্না, সানজিদা, কৃষ্ণারা। ৪৯ মিনিটে শিরোপা এনে দেওয়া গোল মাসুরা পারভিনের।

পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ২৪ গোলের এই একটিই মাসুরার। সবচেয়ে দামিও সেটা। ম্যাচ শেষে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাটা চাংলিমিথাংয়ে উড়ছিল পতপত করে। আর জানান দিচ্ছিল দক্ষিণ এশিয়ান মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের জয়গান। গত বছর ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫’র শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। গতকাল মেয়েদের ফুটবল সাক্ষ্মী হলো আরো একটা প্রথমের। প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের শিরোপাও এখন বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালের সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্ট। কিন্তু শেষ চারে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চমকে দেয় নেপাল। সেই আত্মবিশ্বাসে ফাইনালেও তারা খেলেছে সমান তালে। বিরতির আগে শক্তিশালী রক্ষণে নেপাল সুরক্ষিত রাখে গোলপোস্ট। এ সময় বাংলাদেশের একমাত্র সুযোগ সপ্তম মিনিটে। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও স্নায়ুর চাপে পোস্টের ওপর দিয়ে তুলে মারেন কৃষ্ণা রানী। ১২ মিনিটে একবার বল জালে জড়ালেও এর আগেই ফাউলের জন্য গোলের বাঁশি বাজাননি রেফারি। উত্তেজনার ম্যাচে বিরতির আগে এলোমেলো থাকা বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত গোলটা পায় ৪৯ মিনিটে। বক্সের ৩০ গজ বাইরে সিরাত জাহান স্বপ্না ফাউলের শিকার হলে ফ্রিকিক পায় গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমীর সেই ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ মাসুরা পারভিনের।

এই একটি গোলই গড়ে দেয় ব্যবধান। দুই মিনিট পর সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। তাদের প্রচেষ্টা নষ্ট হয় ক্রসবারে লেগে। এরপর গোল না খেতে বাংলাদেশ হয়ে পড়ে রক্ষণাত্মক। ডিফেন্স আগলে প্রতি-আক্রমণে খেলায় আর গোল পাননি স্বপ্নারা। এই কৌশলেই অক্ষুণ্ন থাকল নেপালের বিপক্ষে বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে না হারার রেকর্ড। ঢাকায় ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ হিমালয়কন্যাদের হারিয়েছিল ৬-০ গোলে। কাজাখস্তানে ২০১৬ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে জয়ের ব্যবধান ১৪-০। একই টুর্নামেন্টে ২০১৫ সালে জয় ১-০ গোলে। গত আগস্টে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েদের জয় ৩-০ গোলে। এবারের টুর্নামেন্টেও গ্রুপ পর্বে জিতেছিল ২-১ গোলে। তাও বেঞ্চের খেলোয়াড়দের খেলিয়ে। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে বিরতির পর গোছানো ফুটবল খেলেছিল নেপালি মেয়েরা। এ জন্য কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ফাইনালের আগে ছিলেন সতর্ক। নেপালিদের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটাই বলছে কেন তাদের হালকাভাবে নেয়নি বাংলাদেশ।

পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। এরপর নেপালকে ২-১ আর সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভুটানকে বিধ্বস্ত করেছিল ৪-০ গোলে। ৮ গোল করা সিরাত জাহান স্বপ্না চোটের জন্য খেলতে পারেননি সেমিফাইনাল। গতকাল তাঁর ফেরায় আত্মবিশ্বাস বাড়ে দলের। স্বপ্না গোল না পেলেও ১-০ ব্যবধানের জয়ে শিরোপা বাংলাদেশেরই। আর ৮ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরের কীর্তিটা স্বপ্নার। পাকিস্তানকে উড়িয়ে শুরুর পর নেপালকে হারিয়ে শিরোপায় শেষ হলো বাংলাদেশের।

গত বছর ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮র শিরোপা জিতে সাফল্যের মুকুটে যোগ হলো আরো একটি পালক। এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারায় ভারত। ৭৩ মিনিটে একমাত্র গোলটি দেবনেতা রায়ের।

Check Also

বাংলাদেশকে দিয়েই নতুন ইতিহাস গড়ল নিউজিল্যান্ড

বাংলার আলো ডেস্ক: এক টেস্ট এখনও বাকি। এরই মধ্যে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *