বুধবার , ডিসেম্বর ১৯ ২০১৮

কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের দুই মানব পাচারকারী বেপরোয়া !!

সোহেল রানা, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ির ২ মানব পাচারকারী এখন বেপরোয়া। জানা যায়, প্রায় ২০ জনকে পাচার করেছে এই দুই মানব পাচারকারী। এর মধ্যে অনেকেই ঋণ করে ও জমি বিক্রয় করে মানবপাচারকারী উজ্জ্বলের কাছে টাকা দিয়ে সে সব ভুক্তভোগীদের দেশে ফেরত নিয়ে এসেছে।

এদের প্রত্যেককেই দেয়া হয়েছে সাপ্লাই ভিসা। এর মানে এখান থেকে তাদেরকে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করে দেওয়া হয় সৌদি আরবের এক এজেন্সির কাছে। পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের মাজিলা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রুবেল এর কাছ থেকে পাওয়া গেল লোমহর্ষক কিছু তথ্য। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবেল বলেন, গত মার্চ মাসে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি সৌদি আরব যান ওই এলাকার দালাল উজ্জলের মাধ্যমে। কিন্তু গিয়ে দেখে তাকে সৌদি আরবের এক এজেন্সির কাছে ৩০ হাজার রিয়ালে বিক্রয় করা হয়েছে তিনি আরো বলেন, যারা আমাকে ক্রয় করেছে তারা আমাকে ঠিকভাবে খাওয়ার দিত না, ঘুমানোর জায়গা দিত না এবং প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিত।

এই সব এজেন্সি আবার চড়া দামে অন্য এজেন্সির কাছে চুক্তি হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল আমাদেরকে। আমাদের মাঝে কেউ অসুস্থ হয়ে পরলে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করত না তারা। এক পর্যায়ে বিষয়টি আমরা আমাদের পরিবারের কাছে জানালে পরিবারের লোকজন আদম ব্যবসায়ী উজ্জল এর নিকট যায়। উজ্জল তাদেরকে জানান, এভাবে কিছুদিন থাকলে ঠিক হয়ে যাবে। আমি তাদের ফেরত আনতে পারব না ফেরত আনতে হলে স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে হবে। আরো ২০ হাজার টাকা আমাদের দিতে হবে। আমার জীবন বাঁচাতে এভাবেই টাকা দিয়ে চুক্তি করতে রাজি হয় আমার পরিবার। জমি বিক্রয় এবং ঋণ করে বিদেশ গিয়ে ছিলাম আমি। স্বপ্ন ছিল অনেক সেই স্বপ্নগুলো এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে আম এই পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে তাহের নামের এক ব্যাক্তি এখন সর্বস্বান্ত। এখন সে পার করছে মানবেতর জীবন। তাকেও একই ভাবে সাপ্লাই ভিসা দিয়ে এজেন্সির কাছে বিক্রয় করে দিয়েছিল এই দালাল উজ্জ্বল। তাহের জানান, তার সামনেই ছটফট করে মারা যায় নরসিংদীর এক ব্যক্তি।

পরে একটি মাধ্যমে আমি বাড়িতে জানালে বাড়ির লোকজন অনেক কষ্ট করে দালালের মাধ্যমে স্ট্যাম্প করে আরও ২০ হাজার টাকা দালাল নামে মানব পাচারকারী উজ্জলকে কে দিয়ে আমাকে ফেরত নিয়ে আসে। সেখানে তিন মাস মানবেতর জীবন যাপন করি আমি। ঠিকভাবে খাওয়ার দিত না থাকতে দিত না ১৬ থেকে ১৭ ঘন্টা কাজ করিয়ে নিত। কিছু বললেই তারা বলতো তোদেরকে কিনে নিয়ে এসেছি এখন যা বলব তাই করতে হবে। না হলে বাংলাদেশের যে দালালের মাধ্যমে এসেছিস তাদের সাথে যোগাযোগ করে যাওয়ার ব্যবস্থা কর। শুধু তাই নয় এখনো মানবেতর জীবন পার করছে সৌদি আরবে।পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রব্বানীর ছেলে রবিউল ইসলাম। প্রতিনিয়ত তার পিতা বাড়ি থেকেই টাকা পাঠাই রবিউল ইসলামকে।

এই টাকা পাঠাতে গিয়ে ইতিমধ্যে তার এক বিঘা জমি বন্ধক রেখেছে রবিউল ইসলামের পিতা গোলাম রব্বানী। দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছে রবিউল ইসলামের স্ত্রী। উল্টো এখন রবিউলের পিতাকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে মানব পাচারকারী দালাল উজ্জল। প্রশাসনের কাছে গিয়েও বিচার পাইনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রব্বানী। ঘরে বসে গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে রবিউল ইসলাম এর পরিবার। ওদিকে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার শত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রবিউল ইসলাম। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মানব পাচারকারী উজ্জল ও ওহাব স্থানীয় এক প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের নেতার ছত্রছায়ায় থাকেন। ইতিপূর্বে এই মানব পাচারকারী উজ্জ্বলকে তার এই ধরণের অপকর্মের কারণে গাছে বেঁধে জুতার মালা পড়িয়েছিল স্থানীয়রা। আমবাড়িয়া এলাকার কিছু যুবককে এভাবে পাচার করার দায়ে বাড়ি থেকে উলঙ্গ করে ভ্যানের উপর বেঁধে নিয়ে যায় তারা। এর পরেও সে দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে মানব পাচার। এই দালাল উজ্জ্বল বলে যা হওয়ার হবে কিন্তু টাকা ফিরিয়ে দেব না।

এসব বিষয় নিয়ে দালাল উজ্জলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সে কল রিসিভ করে নি। এলাকাবাসী কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের নিকট এই দালাল উজ্জ্বল ও ওহাব এর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠিন বিচারের দাবী জানিয়েছেন যাতে আর কোন পরিবারের সন্তান সর্বস্ব হারিয়ে পথে না বসে।

Check Also

১০০ ভরি স্বর্ণসহ রাজশাহীতে গ্রেফতার ৩

 বাংলার আলো ডেস্ক:  রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *