বৃহস্পতিবার , মে ২৩ ২০১৯
Breaking News

আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না : খাদ্যমন্ত্রীকে হুইপ

বাংলার আলো ডেস্ক:

ধানের কম দাম নিয়ে হাহাকারের সঙ্গে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। কৃষকদের অসহায় মুখ দেখে ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তাদের সন্তানরা। এতে যোগ দিয়েছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিতরাও। দাম না পেয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে টাঙ্গাইলে ক্ষেতের ধানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি খাদ্যমন্ত্রী অবিশ্বাসের চোখে দেখায় তাঁর কঠোর সমালোচনাও হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খাদ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না। আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি।’

নিজের সন্তান বিকলাঙ্গ হলেও কোনো মা-বাবা কখনো গলা টিপে তাকে হত্যা করবে না। ঠিক তেমনি কোনো কৃষক আগুনে পুড়িয়ে তার ধান নষ্ট করবে না। গতকাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে প্রান্তিক কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ও চাল ক্রয় উদ্বোধন শেষে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না—এটা স্বীকার করলেও মন্ত্রী বলেন, ধানের দাম ২০০ টাকা মণ হলেও একজন কৃষক কখনো ধান পোড়ানোর মতো কাজ করবে না। এটি একটি মহলের পরিকল্পিত ঘটনা, যাতে সরকারকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলা যায়।

তিনি একই সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের উৎপাদিত চাল বিদেশে রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা সরকারিভাবে প্রান্তিক কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয়ের যে বরাদ্দ দিয়েছি তাতে যেন জোরেশোরে ক্রয় শুরু করা হয়, যেন বাজারে প্রভাব পড়ে। স্থায়ী সমাধানের জন্য যেসব এলাকায় বোরো ধান বেশি উৎপাদিত হয়, সেখানে প্যাডিক সাইক্লোডাই এবং ফ্যানি মেশিন দিয়ে আমরা যাতে ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনতে পারি সে ব্যবস্থা করা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই ফেসবুক পোস্টে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তাঁর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।’ তিনি লেখেন, ‘ক্ষমতা কি মানুষকে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়? আমার জানা মতে, সুস্থ চোখ অন্ধ হতে সময় লাগে। কিন্তু মাত্র চার মাসে ধানের ভাণ্ডার নওগাঁর গাঁও-গেরাম থেকে উঠে আসা খাদ্যমন্ত্রী গাঁয়ের কৃষকদের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক ভুলে গেলেন! অন্ধ হয়ে গেলেন এসির ঠাণ্ডা বাতাসে! তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য নাকি কৃষক ষড়যন্ত্র করে পাকা ধানে আগুন দেওয়ানো হয়েছে!’

স্বপন লেখেন, ‘একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি পরম ধৈর্যশীল, পরমতসহিষ্ণু, উদার গণতান্ত্রিক বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রী এবং তাঁর সম্মানিত সহকর্মী।’ স্বপন আরো লেখেন, ‘আগুন দিয়েছে নিজের ক্ষেতে, আপনার পাঞ্জাবিতে দেয়নি। তাতেই সহ্য হচ্ছে না! শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারটুকুও দেবেন না কৃষককে।

কৃষক বলে কি তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই! কৃষক উৎপাদন করে, ন্যায্য মূল্য পায় না। এ কথা অন্য রাজনীতিবিদ না জানলেও আপনার, আমার অজানা নয়। ধানের দামের খোঁজ নেন, দেখেন, হাটে-বাজারে ধানের প্রকৃত দাম কত? আপনি এই মন্ত্রণালয়ে নতুন। কথিত আছে, এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খাদ্য বিভাগের শুধু কর্মচারী নয়, অফিসের দেয়ালও নাকি ঘুষ চায়। ভূমিমন্ত্রীর মতো সচল হোন, দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করুন।’

Check Also

অনলাইন রেল টিকিট নিয়ে যা বললেন রেলমন্ত্রী সুজন

বাংলার আলো ডেস্ক: আসন্ন ঈদুল ফিতরে রেলের অগ্রিম টিকেট ‘রেল সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে বাসায় বসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *